জিম্বাবুয়ে সিরিজে ভারতের টি-২০ দল থেকে বাদ পড়া ৩ দুর্ভাগা খেলোয়াড়

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-২০ আন্তর্জাতিক সিরিজের জন্য ভারতের ১৫ সদস্যের দল সোমবার (৬ জুলাই) ঘোষণা করা হয়েছে। সিরিজটি শুরু হবে ২৩ জুলাই। পরবর্তী দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ২৫ ও ২৬ জুলাই। তিনটি ম্যাচই জিম্বাবুয়ের হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হবে।
এই সিরিজে ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দেবেন শ্রেয়াস আইয়ার, আর সহ-অধিনায়কের দায়িত্বে থাকবেন তিলক ভার্মা। দলে বেশ কয়েকজন নতুন মুখ সুযোগ পেয়েছেন। যশ ঠাকুর, অশোক শর্মা এবং প্রভসিমরন সিং প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন। অন্যদিকে, রিঙ্কু সিং ও ময়াঙ্ক যাদব দীর্ঘদিন পর দলে ফিরেছেন।
জিম্বাবুয়ে সিরিজের জন্য ভারতের টি-২০ দল:
শ্রেয়াস আইয়ার (অধিনায়ক), বৈভব সূর্যবংশী, অভিষেক শর্মা, তিলক ভার্মা (সহ-অধিনায়ক), ঈশান কিষাণ (উইকেটরক্ষক), রিঙ্কু সিং, শিভম দুবে, সূর্যাংশ শেডগে, হর্ষ দুবে, বরুণ চক্রবর্তী, প্রিন্স যাদব, যশ ঠাকুর, অশোক শর্মা, ময়াঙ্ক যাদব এবং প্রভসিমরন সিং (উইকেটরক্ষক)।
তবে একাধিক তরুণ ক্রিকেটারকে সুযোগ দেওয়া হলেও, আইপিএল ২০২৬ এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করা কয়েকজন ক্রিকেটার এবারও দলে জায়গা পাননি। তাঁদের মধ্য থেকে এমন তিনজন ক্রিকেটারকে নিয়ে আলোচনা করা হলো, যাঁদের বাদ পড়া অনেকের কাছেই বিস্ময়কর।
১. রজত পাতিদার
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) অধিনায়ক রজত পাতিদার দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সত্ত্বেও আবারও ভারতের টি-২০ দলে সুযোগ পাননি। আইপিএল ২০২৬-এ তিনি অসাধারণ ব্যাটিং করে ১৪ ইনিংসে ৫০১ রান করেন। তাঁর গড় ছিল ৪১.৭৫ এবং স্ট্রাইক রেট ছিল ১৯২.৬৯। এই সময় তিনি পাঁচটি অর্ধশতকও হাঁকান।
ভারতীয় দলে একাধিক বাঁহাতি ব্যাটার থাকায় পাতিদারের মতো ডানহাতি ব্যাটারের উপস্থিতি দলের ভারসাম্য আরও বাড়াতে পারত। বিশেষ করে স্পিনারদের বিপক্ষে তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং বড় সম্পদ হতে পারত। ৩৩ বছর বয়সী এই ব্যাটার এখন পর্যন্ত ১১৩টি টি-২০ ম্যাচে ৩,৩৮৯ রান করেছেন। তাঁর গড় ৩৫.৩০, স্ট্রাইক রেট ১৬০.৮১ এবং রয়েছে ৩১টি অর্ধশতক ও একটি শতরান। তবুও এখনও ভারতের হয়ে টি-২০ আন্তর্জাতিক অভিষেকের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।
২. রসিখ সালাম
আইপিএল ২০২৬-এ নজরকাড়া পারফরম্যান্স করেও ভারতের জিম্বাবুয়ে সফরের দলে জায়গা পাননি জম্মু ও কাশ্মীরের পেসার তথা আরসিবির তারকা রসিখ সালাম। আরসিবির শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
১২টি ম্যাচে তিনি ১৯টি উইকেট নেন। তাঁর বোলিং গড় ছিল ২১.৩১, স্ট্রাইক রেট ১৩.৫ এবং ইকোনমি ৯.৪৫। সেরা বোলিং ছিল ৪ উইকেটে ২৪ রান।
সামগ্রিক টি-২০ ক্যারিয়ারে রসিখ ৫৪ ম্যাচে ৬৯টি উইকেট নিয়েছেন। তাঁর ইকোনমি রেট ৮.৭০ এবং রয়েছে একটি পাঁচ উইকেট শিকারের কৃতিত্বও। ভারতের নতুন পেস আক্রমণ গড়ার পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পরও তাঁর বাদ পড়া অনেকের কাছেই বিস্ময়কর।
৩. গুরনুর ব্রার
এই তালিকার তৃতীয় ক্রিকেটার পাঞ্জাবের পেসার গুরনুর ব্রার। ২৬ বছর বয়সী এই ডানহাতি পেসার গত মাসে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একদিনের সিরিজে ভারতের হয়ে অভিষেক করেন এবং তিন ম্যাচে সাতটি উইকেট নিয়ে নজর কেড়েছিলেন। সেই সিরিজে তাঁর বোলিং গড় ছিল ১৯.৪২, স্ট্রাইক রেট ১৯.৫ এবং ইকোনমি রেট ছিল মাত্র ৫.৯৫।
এরপর শ্রীলঙ্কা ‘এ’-এর বিপক্ষে ভারত ‘এ’ দলের হয়ে লাল বলের ক্রিকেটেও নিজের দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রাখেন গুরনুর। দুই ইনিংসে মোট ১০টি উইকেট শিকার করেন, যার মধ্যে এক ইনিংসে ছয় উইকেট নেওয়ার কৃতিত্বও ছিল। তাঁর এই দুর্দান্ত বোলিংয়ের সুবাদে ভারত ‘এ’ ১০ উইকেটের বড় জয় পায়।
তবে সাদা বল ও লাল বল—উভয় ফরম্যাটেই ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্স করার পরও জিম্বাবুয়ে সফরের টি-২০ দলে জায়গা পাননি গুরনুর ব্রার, যা অনেক ক্রিকেটপ্রেমীর কাছেই বিস্ময়ের বিষয় হয়ে উঠেছে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
রজত পাতিদার, রসিখ সালাম এবং গুরনুর ব্রার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স সত্ত্বেও জিম্বাবুয়ে সফরের ভারতের টি-২০ দলে জায়গা পাননি।
আইপিএল ২০২৬-এ ১৪ ইনিংসে ৫০১ রান করে অসাধারণ ফর্মে থাকলেও রজত পাতিদার ভারতের টি-২০ দলে সুযোগ পাননি, যা অনেক ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ ও সমর্থকদের অবাক করেছে।
Sports writer with a strong passion for cricket and the IPL. Focused on creating fresh Bengali content including match analysis, trending cricket news, team updates, and player stories for passionate cricket fans.