ESPNcricinfo Honors: Tendulkar, Kallis and Muralitharan Recognized as Cricket Legends

ক্রিকেট ইতিহাসে নিজেদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে রেখেছেন অনেক কিংবদন্তি। তবে ২০০০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলা ক্রিকেটারদের মধ্যে সেরাদের বেছে নিতে গিয়ে ESPNcricinfo-এর বিশেষজ্ঞ জুরি যে তিনটি নামকে শীর্ষে রেখেছে, তারা হলেন শচীন টেন্ডুলকার, জ্যাক কালিস এবং মুত্তিয়া মুরালিধরন।
২৫ সদস্যের এই বিশেষ জুরিতে ছিলেন ক্রিকেট বিশ্বের বেশ কয়েকজন কিংবদন্তি ও সাবেক তারকা। তাদের ভোটের ভিত্তিতে শচীন টেন্ডুলকারকে শতাব্দীর সেরা ব্যাটার, মুত্তিয়া মুরালিধরনকে সেরা বোলার এবং জ্যাক কালিসকে সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
কেন সেরা শচীন টেন্ডুলকার?
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রান সংগ্রহের ক্ষেত্রে শচীন টেন্ডুলকার এখনো এক অনন্য নাম। টেস্ট ও ওয়ানডে—দুই ফরম্যাটেই তিনি সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের একজন। শতকের পর শতক ধরে ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতা, দীর্ঘ ক্যারিয়ার এবং বিশ্বের সেরা বোলারদের বিপক্ষে অসংখ্য ম্যাচজয়ী ইনিংস তাকে এই স্বীকৃতি এনে দিয়েছে।
শচীনের ব্যাটিং শুধু পরিসংখ্যানেই সীমাবদ্ধ নয়; তিনি ছিলেন কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর অনুপ্রেরণা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার অবদান আধুনিক ক্রিকেটের ভিত্তি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
জ্যাক কালিস: সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার
দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি জ্যাক কালিসকে অনেকেই ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে সম্পূর্ণ অলরাউন্ডারদের একজন বলে মনে করেন। টেস্ট ক্রিকেটে তার ১৩,২৮৯ রান এবং ২৯২ উইকেট তাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
কালিসের মতে, তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডে দক্ষিণ আফ্রিকার ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের দিক থেকে ২০১০ সালে ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরিয়নে করা অপরাজিত ২০১ রানকে তিনি নিজের অন্যতম সেরা ইনিংস হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মুত্তিয়া মুরালিধরন: উইকেটের রাজা
শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি স্পিনার মুত্তিয়া মুরালিধরন টেস্ট ক্রিকেটে ৮০০ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার শেষ করেন, যা এখনো বিশ্বরেকর্ড। তার অসাধারণ স্পিন, ভ্যারিয়েশন এবং ধারাবাহিকতা ২০০০-এর দশকে শ্রীলঙ্কাকে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম শক্তিশালী দলে পরিণত করেছিল।
মুরালিধরনের গড় ২৩-এরও নিচে থাকা এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বসেরা বোলারদের একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা তাকে এই সম্মানের যোগ্য করে তুলেছে।
এলিস পেরি পেলেন নারী ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সম্মান
নারী ক্রিকেটে ২১শ শতাব্দীর সেরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা অলরাউন্ডার এলিস পেরি।
পেরি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে ২০২০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালের কথা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজে তার পারফরম্যান্স নারী ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিশেষ সম্মান
এই অনুষ্ঠানে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সেরা ব্যাটার নির্বাচিত হয়েছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে তাকে গণ্য করা হয়।
অন্যদিকে সেরা টি-টোয়েন্টি বোলারের পুরস্কার জিতেছেন ভারতের তারকা পেসার জসপ্রিত বুমরাহ। ভারতকে দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে একাধিক আইপিএল শিরোপা জেতাতে তার অবদান ছিল অসাধারণ।
ESPNcricinfo-এর শীর্ষ ৫ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার
| র্যাঙ্ক | খেলোয়াড় |
|---|---|
| ১ | শচীন টেন্ডুলকার |
| ২ | জ্যাক কালিস |
| ৩ | বিরাট কোহলি |
| ৪ | মুত্তিয়া মুরালিধরন |
| ৫ | রিকি পন্টিং |
উপসংহার
ক্রিকেটের ২১শ শতাব্দী অসংখ্য মহান ক্রিকেটারের সাক্ষী হয়েছে। তবে পরিসংখ্যান, ধারাবাহিকতা, ম্যাচে প্রভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি অবদানের বিচারে শচীন টেন্ডুলকার, জ্যাক কালিস এবং মুত্তিয়া মুরালিধরনকে সবার ওপরে রাখা হয়েছে। ESPNcricinfo-এর এই নির্বাচন ক্রিকেট ইতিহাসে তাদের অসাধারণ অবদানকে নতুন করে স্বীকৃতি দিল এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাদের উত্তরাধিকার আরও শক্তিশালী করে তুলল।