Glenn Phillips The Ultimate Utility Cricketer for New Zealand

Glenn Phillips সম্পর্কে একবার Kane Williamson না থাকলে সমস্যা হবে কি না জানতে চাওয়া হলে তিনি নিজেই বলেছিলেন,
“কেন উইলিয়ামসন নেই, কোনও সমস্যা নেই।”
এই কথার মধ্যেই লুকিয়ে আছে গ্লেন ফিলিপসের মানসিকতা। ব্যাটার, উইকেটকিপার, প্রয়োজনে অফ স্পিন বোলার—সব ভূমিকাতেই নিজেকে উজাড় করে দেন তিনি। বল নাগালের বাইরে থাকলেও ঝাঁপ দেন, উইকেটের মাঝে দৌড়ান প্রাণপণে, আর ব্যাটিংয়ের সময় Jofra Archer-এর বাউন্সার সামলাতেও পিছপা হন না।
‘সব কিছু পারেন, কিন্তু কোনওটাতেই এক নম্বর নন’
গ্লেন ফিলিপস আদর্শ অর্থে অলরাউন্ডার নন। তিনি বরং ‘সব কাজের কাজী, কিন্তু কোনওটাতেই সেরা নন’—এই ধরনের ক্রিকেটার। এতে কোনও লজ্জা নেই। ২৯ বছর বয়সী এই কিউই তারকা দলের সেরা ব্যাটার নন, সেরা উইকেটকিপারও নন। এমনকি অনেক সময় সবচেয়ে নিরাপদ ক্যাচারও নন।
কিন্তু তিনি সেই ক্রিকেটার, যিনি প্রতিপক্ষের জুতোর ভেতরের ছোট পাথরের মতো—ছোট হলেও অস্বস্তিকর এবং ম্যাচ জুড়ে বিরক্তিকর।
টেস্ট ক্রিকেটে একার হাতে ম্যাচ ঘোরানোর ক্ষমতা
১৮টি টেস্ট ম্যাচের ক্যারিয়ারেই গ্লেন ফিলিপস বারবার প্রমাণ করেছেন, একাই ম্যাচের চেহারা বদলে দিতে পারেন। এর সেরা উদাহরণ মিরপুর টেস্ট ২০২৩। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিদেশের মাটিতে নিজের মাত্র তৃতীয় টেস্টেই তিনি করেন ১২৭ রান এবং নেন ৩ উইকেট। পুরো ম্যাচে মাত্র দু’জন ব্যাটার হাফ-সেঞ্চুরি করেন, যার মধ্যে ফিলিপস ছিলেন প্রথম এবং ম্যাচের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।
লর্ডস ও ওভালে ফিলিপসের নতুন অধ্যায়
তিন বছর পর, ইতিহাস যেন আবার ফিরে এল। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে লর্ডসে, বিদেশের মাটিতে আবারও নিউ জিল্যান্ডের সেরা ব্যাটার ছিলেন গ্লেন ফিলিপস। দুই ইনিংসে তাঁর রান ছিল ৩৪ ও ৪৪। দুই দলের মধ্যে তিনিই একমাত্র ব্যাটার, যিনি দুই ইনিংসেই ৩০ রানের গণ্ডি পার করেন।
এই ধারাবাহিকতা তিনি বজায় রেখেছেন দ্বিতীয় টেস্টে, দ্য ওভালেও।
শতরান করে নিউ জিল্যান্ডকে বাঁচালেন ফিলিপস
সিরিজে ০–১ পিছিয়ে এবং কেন উইলিয়ামসন ছাড়া মাঠে নেমে নিউ জিল্যান্ড ছিল চাপে। ভালো ব্যাটিং পিচে দল দাঁড়ায় ১৮৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে। ইংল্যান্ডের চার পেসারের সম্মিলিত টেস্ট অভিজ্ঞতা ছিল ২৯ ম্যাচ। কিউই ব্যাটাররা ব্যর্থ হলেও ফিলিপস ও Tom Blundell দলকে বিপদ থেকে টানেন।
ব্লান্ডেল আউট হওয়ার পর একা লড়াই চালান ফিলিপস। ২৮০ রানে ৭ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরও তিনি হাল ছাড়েননি। দ্বিতীয় দিনে লক্ষ্য ছিল অন্তত ৩৫০ রান। ইংল্যান্ড ফের বাউন্সার আক্রমণে যায়। আগের দিন আর্চারের পরীক্ষা পেরোলেও জশ টং ও সনি বেকার ততটা ভয় ধরাতে পারেননি।
চাপের মধ্যেই শতরান
ফিলিপসের সঙ্গে কাইল জেমিসন ৫০ রানের জুটি গড়েন। ৪০০ রানও সম্ভব বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু জেমিসন আউট হয়ে গেলে ফিলিপস পৌঁছে যান ৮৩ রানে। এরপর ম্যাট হেনরিকে সঙ্গে নিয়ে ধীরে ধীরে রান বাড়ান।
ইংল্যান্ড অধিনায়ক Joe Root আর্চারকে দেরিতে আক্রমণে আনেন। ৯৬তম ওভারে এক রান নিয়ে গ্লেন ফিলিপস পূর্ণ করেন নিজের প্রথম টেস্ট শতরান। পরের ওভারেই তিনি আউট হলেও, ততক্ষণে কাজ শেষ।
গ্যালারি এবং কিউই ড্রেসিংরুম দাঁড়িয়ে করতালি দেয় এই অসাধারণ ইনিংসের জন্য।
কেন ফিলিপস আলাদা
এই ইনিংস ছিল পুরনো দিনের এক দিনের ক্রিকেটের মতো—ধীরে ধীরে ইনিংস গড়া, সঠিক বোলার বেছে আক্রমণ করা। টানা তিন ইনিংস ধরে নিউ জিল্যান্ডের সেরা ব্যাটার ছিলেন তিনি।
ফিলিপসের টেকনিক বা স্টাইল দেখলে তাকে আদর্শ টেস্ট ব্যাটার মনে নাও হতে পারে। কিন্তু লর্ডসের অনিয়মিত বাউন্স হোক বা ওভালের ব্যাটিং সহায়ক পিচ—সব পরিস্থিতিতেই তিনি প্রমাণ করেছেন, গ্লেন ফিলিপস সহজে ভাঙার মানুষ নন।