IPL 2026 Final RCB Historic Victory Under Rajat Patidar Leadership

২০০৯, ২০১১ এবং ২০১৬ এই তিনটি বছর রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর জন্য ছিল ভীষণ যন্ত্রণার। তিনবার ফাইনালে পৌঁছেও শিরোপা হাতছাড়া হয়। প্রতিবারই আশা ভেঙে যায়, কিন্তু দল লড়াই ছাড়েনি। অবশেষে ২০২১ সালে বিরাট কোহলি অধিনায়কত্ব ছাড়েন, তবে তাতেও তৎক্ষণাৎ সাফল্য আসেনি।
২০২৫ সালে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। দল নতুন অধিনায়ক হিসেবে রাজত পাটিদারকে দায়িত্ব দেয় এবং তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয় একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠনের। শুধু বড় তারকাদের উপর নির্ভর না করে শক্তিশালী মিডল অর্ডার ও কার্যকর বোলিং আক্রমণে জোর দেয় আরসিবি।
এই এক সিদ্ধান্তই বদলে দেয় ফ্র্যাঞ্চাইজির ভাগ্য।
আইপিএল ২০২৬ ফাইনালে আরসিবির বোলিং আধিপত্য
আইপিএল ২০২৬ ফাইনালে গুজরাটের বিরুদ্ধে আরসিবির বোলাররা প্রথম থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। ভুবনেশ্বর কুমার, জশ হ্যাজেলউড এবং রসিখ সালাম দার একসাথে দুর্দান্ত বোলিং করে গুজরাট টাইটান্সকে ১৫৫ রানের মধ্যেই আটকে দেয়।
শুভমান গিলের নেতৃত্বাধীন দলে সাই সুদর্শন ও জস বাটলারের কাছ থেকে বড় ইনিংসের আশা থাকলেও তারা ব্যর্থ হন। এক পর্যায়ে গুজরাটের স্কোর দাঁড়ায় ৭৩ রানে ৪ উইকেট।
ওয়াশিংটন সুন্দর একা লড়াই করলেন
চাপের মধ্যে ওয়াশিংটন সুন্দর দায়িত্ব নেন। তিনি ৩৭ বলে ৫০ রান করে দলকে সম্মানজনক স্কোরে পৌঁছে দেন। অন্য ব্যাটারদের কাছ থেকে আরও সহায়তা পেলে গুজরাট ১৮০ রানের কাছাকাছি যেতে পারত, যা ম্যাচের রূপ বদলে দিতে পারত।
বিরাট কোহলির ক্লাসি ফিনিশ
লক্ষ্য তাড়ায় বিরাট কোহলি ও ভেঙ্কটেশ আইয়ার ঝড় তুললেন। ভেঙ্কটেশ ১৬ বলে ৩২ রানের ক্যামিও খেলেন, আর কোহলি পুরো ইনিংস জুড়ে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন। তিনি মাত্র ২৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এবং শেষ পর্যন্ত ৪২ বলে অপরাজিত ৭৫ রান করে দলকে জয়ের পথে নিয়ে যান।
কয়েকটি দ্রুত উইকেট পড়লেও কোহলি এক মুহূর্তের জন্যও বিচলিত হননি। তার অভিজ্ঞতা ও শান্ত মেজাজেই সহজে লক্ষ্যে পৌঁছায় আরসিবি।
টানা দুইবার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন আরসিবি
১২ বল হাতে রেখেই লক্ষ্য তাড়া করে ফেলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। এই জয়ের মাধ্যমে তারা চেন্নাই সুপার কিংস এবং মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের পর তৃতীয় দল হিসেবে টানা দুই বছর আইপিএল শিরোপা জয় করে।
যা একসময় অসম্ভব মনে হয়েছিল, তা রাজত পাটিদারের নেতৃত্বে অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে।