West Indies Finish Strong, Defeat Sri Lanka to Claim T20I Series
জ্যামাইকার কিংস্টনে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৫ উইকেটে হারিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রোমাঞ্চকর রান তাড়ায় শেষ ওভারে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন শেরফেন রাদারফোর্ড। তাঁর অপরাজিত ৫৪ রান এবং জেসন হোল্ডারের ঝোড়ো ক্যামিওর সুবাদে দুই বল হাতে রেখেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ক্যারিবিয়ানরা।
১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৯.৪ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৭০ রান তোলে। রাদারফোর্ড ৪০ বলে ৫৪ রানে অপরাজিত থাকেন। অন্যদিকে, জেসন হোল্ডার মাত্র ৫ বলে ২১ রান করে অপরাজিত থাকেন। তাঁর ইনিংসে ছিল তিনটি বিশাল ছক্কা।
রাদারফোর্ডের ইনিংস চলাকালীন দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ মিস করে শ্রীলঙ্কা, যা শেষ পর্যন্ত সিরিজ হাতছাড়া হওয়ার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রথম দুটি ম্যাচে দুই দল একটি করে ম্যাচ জেতায় সিরিজ নির্ধারণী এই ম্যাচে চাপ ছিল দুই দলের ওপরই।
টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত, জোসেফের পাঁচ উইকেট
টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করেন পেসার শামার জোসেফ। তিনি ৩৩ রান খরচায় ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন।
শ্রীলঙ্কার ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে দুটি এবং শেষ ওভারে তিনটি উইকেট নেন জোসেফ। দুইবার হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি।
ম্যাচের নবম বলেই ম্যাথিউ ফোর্ড নিজের বোলিংয়ে অসাধারণ একহাতে ক্যাচ নিয়ে কুশল মেন্ডিসকে ৫ রানে ফেরান।
প্রথম পাঁচ ওভারে ১ উইকেটে ৪৯ রান তুলে ভালো অবস্থানে ছিল শ্রীলঙ্কা। তবে ষষ্ঠ ওভারে টানা দুই বলে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি।
পাথুম নিশাঙ্কা ১৭ বলে ২৬ রান করে রোস্টন চেজের হাতে ক্যাচ দেন। ৪৩ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি ভাঙার পরের বলেই এলবিডব্লিউ হন পবন রত্নায়েকে।
ওয়েল্লালাগের লড়াইয়ে সম্মানজনক সংগ্রহ
মধ্য ও নিম্নক্রমে দুনিথ ওয়েল্লালাগে দারুণ ব্যাটিং করেন। তিনি ২৮ বলে ৪৩ রান করেন এবং শ্রীলঙ্কার ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান।
ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ১৩ বলে ২১ রান করে সপ্তম উইকেটে ওয়েল্লালাগের সঙ্গে ৪৯ রানের জুটি গড়েন। তবে ১৯তম ওভারে রান আউট হয়ে ফিরে যান হাসারাঙ্গা।
২০তম ওভারে ওয়েল্লালাগে আউট হওয়ার পর দ্রুত তিনটি উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। নির্ধারিত ২০ ওভারে দলটির সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৬৯ রান।
রাদারফোর্ড-পাওয়েলের জুটি ম্যাচে ফেরায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে
রান তাড়ায় তৃতীয় বলেই শাই হোপকে হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওয়েল্লালাগের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি।
এরপর দ্রুত ৫২ রান তুললেও মাত্র ১২ বলের ব্যবধানে ১ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখন শ্রীলঙ্কার দিকে চলে যায়।
সেখান থেকে রভম্যান পাওয়েল ও শেরফেন রাদারফোর্ড পঞ্চম উইকেটে ৮১ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন।
পাওয়েল ৩৩ রান করে ১৭তম ওভারের শেষ বলে আউট হন। ওই ওভারটি ছিল ম্যাচের অন্যতম নাটকীয় ওভার। দুশমন্ত চামিরার করা ওভারে ছিল একটি নো-বল, দুটি ওয়াইডসহ মোট ৯টি বল। সেই ওভার থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পায় ২৪ রান।
এর ফলে শেষ ৩ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দরকার ছিল ৩৬ রান।
হোল্ডারের ঝড়ে সিরিজ জয়
শেষ দুই ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায় ২৯ রান। তখন জেসন হোল্ডার চামিরাকে আক্রমণ করে মাত্র চার বলের মধ্যে তিনটি ছক্কা হাঁকান।
১৯তম ওভারের শেষে জয়ের জন্য দরকার ছিল মাত্র ৬ রান। শেষ পর্যন্ত দুই বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ২-১ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিজেদের করে নেয়।
সফরের আপডেট
এর আগে বৃষ্টিবিঘ্নিত তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল শ্রীলঙ্কা। সিরিজের শেষ দুটি ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছিল। প্রথম ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কা ৪১ রানে জয় পেয়েছিল।
এবার দুই দল মুখোমুখি হবে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে। সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হবে ২৫ জুন অ্যান্টিগায়।
