শুভমান গিলের ODI ক্রিকেটে উত্থান: অধিনায়কত্ব, লখনউয়ে শতরান এবং ২০২৭ বিশ্বকাপের স্বপ্ন

ক্রিকেটে এমন একটি সময় আসে, যখন একজন ব্যাটার যা-ই করেন, সবই ঠিকঠাক হয়ে যায়। ব্যাটে বল ঠিক মাঝখানে লাগে, চোখ সেট করতে হয় না, এজ হলেও ফিল্ডারের কাছে যায় না। ক্রিকেটপ্রেমীরা এই সময়টাকেই বলেন ব্যাটারের পিক বা স্বর্ণযুগ। আর এখন ঠিক সেই পর্যায়েই পৌঁছে গিয়েছেন Shubman Gill।
সাধারণত একজন এলিট ব্যাটারের পিক সময় ধরা হয় ২৬ থেকে ৩২ বছর। এই বয়সে খেলোয়াড়রা নিজেদের খেলা পুরোপুরি বুঝে ফেলেন, শারীরিকভাবে সেরা অবস্থায় থাকেন এবং মানসিক পরিপক্বতাও আসে। শুবমান গিল এখন ঠিক এই জায়গাতেই দাঁড়িয়ে।
শুবমান গিলের ফর্ম কেন আলাদা করে নজর কাড়ছে
২০২৫ সাল থেকেই গিলের উত্থান স্পষ্ট। আইপিএলে টানা দুই বছরে তিনি করেছেন ১৩৮২ রান। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আসল মোড় আসে ইংল্যান্ড সফরে। পাঁচ টেস্টের সিরিজে তাঁর ইনিংসগুলো ছিল ১৪৭, ২৬৯, ১৬১ ও ১০৩। এরপরের পাঁচ টেস্ট ইনিংসে একটি শতরান ও দুটি অর্ধশতরান মিলিয়ে লাল বলের ক্রিকেটে অধিনায়ক হিসেবে তাঁর গড় দাঁড়িয়েছে অবিশ্বাস্য ৮৭.৭৫।
টি টোয়েন্টিতে ২০২৫ সালে পারফরম্যান্স খুব একটা ভালো না হলেও ওয়ানডে ক্রিকেটে শুরুটা হতাশাজনক ছিল। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক সিরিজে তিন ম্যাচে মাত্র ৪৩ রান। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুটি অর্ধশতরান এলেও বড় ইনিংস আসেনি।
কিন্তু এখন ছবিটা বদলেছে।
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে গিলের আধিপত্য
ধরমশালায় আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ৮৪ রানের ইনিংস ছিল অধিনায়ক হিসেবে গিলের সেরা পারফরম্যান্স। লখনউতে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে এল তাঁর প্রথম শতরান অধিনায়ক হিসেবে। এই ইনিংসই প্রমাণ করে দিল, ওয়ানডে ক্রিকেটেও তিনি নিজের পিক পর্যায়ে প্রবেশ করেছেন।
এক সময় যেমন Virat Kohli ছিলেন অপ্রতিরোধ্য, তেমনই কিছু একটা শুরু হতে চলেছে গিলের ক্ষেত্রে। ২০১২ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত কোহলি সব ফরম্যাট মিলিয়ে ১৮২৯৫ রান করেছিলেন, যেখানে পরের সেরা ছিলেন Joe Root, যিনি কোহলির চেয়ে ৪১৮৭ রান পিছিয়ে।
গিল হয়তো টি টোয়েন্টিতে কোহলির মতো দীর্ঘ ক্যারিয়ার গড়বেন না, কিন্তু ওয়ানডে ও টেস্টে তিনি যে ভবিষ্যতের কেন্দ্রে থাকবেন, তা স্পষ্ট।
মিশন ওয়ানডে বিশ্বকাপ ২০২৭
গিলের সামনে একটি বড় সুযোগ রয়েছে। কোহলির পিক সময়ে ভারত খুব বেশি আইসিসি ট্রফি জিততে পারেনি। কিন্তু বর্তমান ভারতীয় দল গত তিন বছরে তিনটি আইসিসি ট্রফি জিতেছে। একমাত্র অপূর্ণতা ওয়ানডে বিশ্বকাপ।
২০২৩ সালের বিশ্বকাপে ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারের সাক্ষী ছিলেন গিল। এবার ২০২৭ সালে সেই ট্রফি জয়ের সুযোগ তাঁর সামনে, শুধু ভারতের সেরা ব্যাটার হিসেবে নয়, অধিনায়ক হিসেবেও। যদি পাশে থাকেন কোহলি ও Rohit Sharma, তাহলে সেই মুহূর্তটা হবে একেবারেই কবিতার মতো।
শুবমান গিলের ওয়ানডে ব্যাটিং পরিসংখ্যান
| পর্যায় | সময়কাল | ইনিংস | রান | সর্বোচ্চ | গড় | স্ট্রাইক রেট | শতরান | অর্ধশতরান |
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| অধিনায়ক হিসেবে | ২০২৫–২০২৬ | ৮ | ৩৬৬ | ১০৪ অপরাজিত | ৬১.০০ | ১০৫.৯৯ | ১ | ৩ |
| অধিনায়ক নন | ২০১৯–২০২৫ | ৫৫ | ২৭৭৫ | ২০৮ | ৫৯.০৪ | ৯৯.৫৬ | ৮ | ১৫ |
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
হ্যাঁ। ধারাবাহিক রান, অধিনায়ক হিসেবে সাফল্য এবং বড় ইনিংস প্রমাণ করে তিনি পিক ফেজে আছেন।
বর্তমান ফর্ম ও মানসিক পরিপক্বতা দেখে বলা যায়, তিনি ভারতের বিশ্বকাপ অভিযানের অন্যতম প্রধান মুখ হতে পারেন।
Sports writer with a strong passion for cricket and the IPL. Focused on creating fresh Bengali content including match analysis, trending cricket news, team updates, and player stories for passionate cricket fans.