বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান টেস্টে হ্যান্ডশেক বিতর্কে রিজওয়ান

সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেটে হ্যান্ডশেক শুধু সৌজন্যের বিষয় নয়, বরং আলোচনার বড় অংশ হয়ে উঠেছে। মাঠে কী হবে তার থেকেও অনেক সময় দর্শকদের কৌতূহল থাকে ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়রা একে অপরের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করবেন কি না। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ভারত ও পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের মধ্যে এই দৃশ্য প্রায়শই এড়িয়ে চলা হয়। এবার তেমনই এক বিতর্কের জন্ম দিলেন পাকিস্তানের উইকেটকিপার ব্যাটার Mohammad Rizwan এবং বাংলাদেশ দল।
দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে ২ ০ ব্যবধানে হারানোর কয়েক দিন পর, বাংলাদেশের উইকেটকিপার ব্যাটার Litton Das অভিযোগ করেন যে ম্যাচ শেষের পর রিজওয়ান বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করতে অস্বীকার করেন। এই সিরিজ এমনিতেই উত্তপ্ত ছিল, দুই দলের মধ্যে কথার লড়াই এবং স্লেজিং বারবার শিরোনামে এসেছে।
স্টাম্প মাইক বিতর্ক এবং মাঠের উত্তেজনা
সিরিজ জুড়ে লিটন দাস ও রিজওয়ানের মধ্যে চাপা উত্তেজনা তৈরি হচ্ছিল। সিলেটে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টে sightscreen-এর পেছনে নড়াচড়া নিয়ে রিজওয়ানের অভিযোগের কারণে খেলা বারবার থেমে যায়, যা বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের বিরক্ত করে তোলে।
উইকেটের পেছনে দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। লিটন দেরি নিয়ে প্রশ্ন তুললে রিজওয়ান পাল্টা বলেন এটি কি লিটনের কাজ, তার নিজের কাজ না আম্পায়ারের দায়িত্ব। এই কথোপকথনের ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
এরপর স্টাম্প মাইকে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা রিজওয়ানের আচরণ নিয়ে মজা করেন। লিটন দাস এবং অধিনায়ক Najmul Hossain Shanto একটি জনপ্রিয় হিন্দি সিনেমার সংলাপ উদ্ধৃত করে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলেন। ম্যাচজুড়ে স্লেজিং চলতে থাকে, যার উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানের অভিজ্ঞ ব্যাটারকে চাপে ফেলা।
লিটন দাসের বিস্ফোরক অভিযোগ
সিরিজ শেষের পর লিটন দাস স্পষ্ট ভাষায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে মাঠের লড়াই মাঠেই শেষ হওয়া উচিত।
লিটন বলেন, মাঠে যা কিছুই হোক না কেন, ম্যাচ শেষ হলে সবাইকে হ্যান্ডশেক করা উচিত। প্রথম টেস্টে হারের পর রিজওয়ান আমাদের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করতে আসেননি, যা খুবই খারাপ। দ্বিতীয় টেস্টেও একই ঘটনা ঘটেছে। তাঁর আমার সঙ্গে সমস্যা থাকতে পারে, কিন্তু পুরো বাংলাদেশ দল তাঁর বিরুদ্ধে কিছু করেনি।
তিনি আরও বলেন, পুরো পাকিস্তান দল আমাদের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করেছে, শুধু রিজওয়ান করেননি। এটি একেবারেই অপেশাদার আচরণ। ফলাফল যাই হোক, হ্যান্ডশেক করা উচিত।
লিটন আরও জানান, রিজওয়ানকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করা হয়েছিল কারণ তিনি পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভরসা। তাঁর মতে পাকিস্তানের দলে মূলত দুইজন ব্যাটারই বাংলাদেশকে সমস্যায় ফেলতে পারেন, একজন বাবর আজম এবং অন্যজন রিজওয়ান।
মাঠে পারফরম্যান্সেই জবাব বাংলাদেশের
স্লেজিংয়ের পাশাপাশি মাঠের পারফরম্যান্সেও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ। টানা চারটি টেস্ট ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়েছে টাইগাররা।
শেষ চারটি টেস্টে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান ফলাফল
| ফলাফল | ভেন্যু |
|---|---|
| বাংলাদেশ ১০ উইকেটে জয় | রাওয়ালপিন্ডি |
| বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয় | রাওয়ালপিন্ডি |
| বাংলাদেশ ১০৪ রানে জয় | ঢাকা |
| বাংলাদেশ ৭৮ রানে জয় | সিলেট |
এই ধারাবাহিক সাফল্য বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
FAQs
লিটন দাসের মতে ম্যাচ শেষে রিজওয়ান বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করতে আসেননি।
বাংলাদেশ টানা চারটি টেস্ট ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়েছে।
Sports writer with a strong passion for cricket and the IPL. Focused on creating fresh Bengali content including match analysis, trending cricket news, team updates, and player stories for passionate cricket fans.